Hafizul Islam

মেয়ে, আমি এখনো তোমার জন্য নিরাপদ বন্ধু আছি কি?

আইরিন আমার প্রথম মেয়ে বন্ধু। তখন বয়স ৫ এর কোটা পেরোয়নি। চিটাগাংয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সরকারি কোয়ার্টারে আমাদের বাসা। পাশের ফ্ল্যাটে থাকতো আইরিনরা। ওরা খুব সম্ভবত ২ বোন। আইরিন বড়। কীভাবে আমরা বন্ধু হয়েছিলাম, কখন কবে ওদের সাথে আমার পরিচয়, এতো বছর পরে এসে ইচ্ছা করলেও আর মনে করতে পারি না। মেয়ে বন্ধু আলাদা কিছু,

Elegy for a Brother who Vanished

‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ ছিলেন কি আমাদের হৃদয় ভাই?

‘হৃদয় ভাই আর নাই! শুনছেন নাকি খবর?’ সহকর্মী মুনীমের ফোন পেয়ে চমকে উঠেছি। বলে কি! হৃদয় ভাই আত্মহত্যা করেছে! এইটা অসম্ভব। মনে মনে বলছিলাম, ‘আরে এমন কিছু হয়নি। একটু পর জানা যাবে, আসল খবর’। ঘুম থেকে উঠে বসে আছি। সোশ্যাল মিডিয়া চেক করছিলাম। আগের দিন ডে অফ ছিলো। বিছানায় বসে বসেই ভাবছিলাম, ছুটি শেষ, বিকালের

why-i-cant-protest-hafizislam

যেভাবে কাটিয়ে দিচ্ছি মেরুদণ্ডহীন ঢ্যাঁড়শমার্কা এক জীবন

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ মনে হচ্ছিলো, কী যেনো নেই নেই লাগছে। মেরুদণ্ডটা আবার হারিয়ে ফেলেছি। এই নিয়ে হাজারতম বারেরও বেশি সময়ের মতো মেরুদণ্ডটা হারালাম। স্পষ্ট দিনক্ষণ মনে নেই। খুব সম্ভবত যখন ঢাকায় প্রথম আসি, তার কিছুদিন পর আমার হোস্টেলেই ঘটেছিল মেরুদণ্ড হারানোর প্রথম উপলক্ষ্য। কনকনে শীতের রাতে ঘুমাতে যাবো। নতুন বানানো ধবধবে সাদা কভার

death-is-same-everywhere-we-go

বাঁশগাও কিংবা নাখালপাড়া, মৃত্যু সবখানে আমার কাছে একইরকম

আমাদের ছোটমামা অবশেষে মারাই গেলেন। দীর্ঘদিন রোগ ভোগে চলে যেতে হলো। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা, বাঁশগাও নিবাসী আবদুল হাকিম মোল্লার ছোট ছেলে আবদুল করিম মোল্লা, আমার ছোটমামা। মৃত্যুকালে তার বয়স কত ছিলো, আমি জানি না। জানার ইচ্ছা হয় নি। নানুবাড়ি আমার কাছে রূপকথার এক রাজ্য ছিলো। বড়মামা, বড়মামী, গল্পবলা বুড়া নানা, ভীষণ আদুরে নানু, বাড়ির সামনে

অতিরিক্ত অপশন আমাদেরকে অসুখী করে?

ঈদের জামা নিয়ে আমি একরকম অদ্ভূত ঝামেলায় পড়তাম শৈশবে। জামা কিনে আনার ২/১ দিন পর আমার মনে হতো, এই জামাটার চেয়ে দোকানের শেলফের অন্য জামাটা সুন্দর ছিলো। কিংবা, পাশের দোকানের হ্যাঙ্গারে ঝুলতে থাকা জামার রঙটা বেশি জোশ। এই ভাবনাটা নিজের মাথায় রাখতে পারলে সমস্যা ছিলো না। ভেজালটা হতো তখন যখন আমি মা-বাবাকেও আমার অহেতুক গন্ডগোলে

i-will-write-about-my-mother

একদিন আমিও মা’কে নিয়ে লিখবো

সেদিন বাড়ি থেকে ঢাকা ফিরছিলাম। আমাকে এগিয়ে দিতে মা আসছিলেন পেছন পেছন। আমার নিষেধ শুনতে না পাওয়ার বহুদিনের অভ্যাস নিয়ে উপজেলা সড়কের মাথা পর্যন্ত এলেন। স্বভাবসুলভ আওয়াজে বললেন, চিন্তা করিস না। খাইস ঠিকমতো। টাকা-পয়সা না থাকলে আগে আগে জানাইস। ব্যবস্থা হইবো নে। আমার সাথের ব্যাগে দিয়ে দিয়েছেন জমানো দেশি মুরগীর ডিম, রান্না তরকারি, গাছের নতুন

favorite-and-unpleasant-teachers-of-mine

প্রিয় ও অপ্রিয়, স্মরণীয় এবং ভুলে যেতে চাওয়া শিক্ষকবৃন্দকে ধন্যবাদ!

ছোটবেলায় শিক্ষাগুরুর মর্যাদার গল্প পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন শিক্ষকের সম্মানের বিষয়টিই সেখানে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়েছিলো। শৈশব পেরিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আকাঙক্ষা নিয়ে। তারপর নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে বহুপথ পার হয়েছি। শেখা ও না শেখার জার্নিতে শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন সুহৃদ কিংবা বিপরীত ভূমিকায়। তাদের নিয়ে লিখছি আজকের ব্লগ। গ্রামের মক্তবে একজন

noor-hossain-from-narinda

নারিন্দার নূর হোসেনের ভাজা মাছের ঘ্রাণে আমাদের মনখারাপ করা দুপুর

কড়া করে তেলেভাজা মাছের ঘ্রাণ আমার প্রথমবার লোভনীয় মনে হয় অনেকদিন আগের এক গ্রীষ্মের দুপুরে। আমি তখন সদরঘাটের পাটুয়াটুলিতে বোর্ডিংয়ে থেকে পড়ছি। আমাদের সাথে নূর হোসেন নামের একজন ক্লাসমেট ছিলো। পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দা হয়ে বেড়ে উঠলেও নূর হোসেনের বাড়ি কোথায় ছিলো, আমার জানা নেই। নারিন্দার কোন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে নূর তার বাবার ভীষণ