Hafizul Islam

why-i-cant-protest-hafizislam

যেভাবে কাটিয়ে দিচ্ছি মেরুদণ্ডহীন ঢ্যাঁড়শমার্কা এক জীবন

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ মনে হচ্ছিলো, কী যেনো নেই নেই লাগছে। মেরুদণ্ডটা আবার হারিয়ে ফেলেছি। এই নিয়ে হাজারতম বারেরও বেশি সময়ের মতো মেরুদণ্ডটা হারালাম। স্পষ্ট দিনক্ষণ মনে নেই। খুব সম্ভবত যখন ঢাকায় প্রথম আসি, তার কিছুদিন পর আমার হোস্টেলেই ঘটেছিল মেরুদণ্ড হারানোর প্রথম উপলক্ষ্য। কনকনে শীতের রাতে ঘুমাতে যাবো। নতুন বানানো ধবধবে সাদা কভার

death-is-same-everywhere-we-go

বাঁশগাও কিংবা নাখালপাড়া, মৃত্যু সবখানে আমার কাছে একইরকম

আমাদের ছোটমামা অবশেষে মারাই গেলেন। দীর্ঘদিন রোগ ভোগে চলে যেতে হলো। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা, বাঁশগাও নিবাসী আবদুল হাকিম মোল্লার ছোট ছেলে আবদুল করিম মোল্লা, আমার ছোটমামা। মৃত্যুকালে তার বয়স কত ছিলো, আমি জানি না। জানার ইচ্ছা হয় নি। নানুবাড়ি আমার কাছে রূপকথার এক রাজ্য ছিলো। বড়মামা, বড়মামী, গল্পবলা বুড়া নানা, ভীষণ আদুরে নানু, বাড়ির সামনে

অতিরিক্ত অপশন আমাদেরকে অসুখী করে?

ঈদের জামা নিয়ে আমি একরকম অদ্ভূত ঝামেলায় পড়তাম শৈশবে। জামা কিনে আনার ২/১ দিন পর আমার মনে হতো, এই জামাটার চেয়ে দোকানের শেলফের অন্য জামাটা সুন্দর ছিলো। কিংবা, পাশের দোকানের হ্যাঙ্গারে ঝুলতে থাকা জামার রঙটা বেশি জোশ। এই ভাবনাটা নিজের মাথায় রাখতে পারলে সমস্যা ছিলো না। ভেজালটা হতো তখন যখন আমি মা-বাবাকেও আমার অহেতুক গন্ডগোলে

i-will-write-about-my-mother

একদিন আমিও মা’কে নিয়ে লিখবো

সেদিন বাড়ি থেকে ঢাকা ফিরছিলাম। আমাকে এগিয়ে দিতে মা আসছিলেন পেছন পেছন। আমার নিষেধ শুনতে না পাওয়ার বহুদিনের অভ্যাস নিয়ে উপজেলা সড়কের মাথা পর্যন্ত এলেন। স্বভাবসুলভ আওয়াজে বললেন, চিন্তা করিস না। খাইস ঠিকমতো। টাকা-পয়সা না থাকলে আগে আগে জানাইস। ব্যবস্থা হইবো নে। আমার সাথের ব্যাগে দিয়ে দিয়েছেন জমানো দেশি মুরগীর ডিম, রান্না তরকারি, গাছের নতুন

favorite-and-unpleasant-teachers-of-mine

প্রিয় ও অপ্রিয়, স্মরণীয় এবং ভুলে যেতে চাওয়া শিক্ষকবৃন্দকে ধন্যবাদ!

ছোটবেলায় শিক্ষাগুরুর মর্যাদার গল্প পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন শিক্ষকের সম্মানের বিষয়টিই সেখানে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়েছিলো। শৈশব পেরিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আকাঙক্ষা নিয়ে। তারপর নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে বহুপথ পার হয়েছি। শেখা ও না শেখার জার্নিতে শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন সুহৃদ কিংবা বিপরীত ভূমিকায়। তাদের নিয়ে লিখছি আজকের ব্লগ। গ্রামের মক্তবে একজন

noor-hossain-from-narinda

নারিন্দার নূর হোসেনের ভাজা মাছের ঘ্রাণে আমাদের মনখারাপ করা দুপুর

কড়া করে তেলেভাজা মাছের ঘ্রাণ আমার প্রথমবার লোভনীয় মনে হয় অনেকদিন আগের এক গ্রীষ্মের দুপুরে। আমি তখন সদরঘাটের পাটুয়াটুলিতে বোর্ডিংয়ে থেকে পড়ছি। আমাদের সাথে নূর হোসেন নামের একজন ক্লাসমেট ছিলো। পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দা হয়ে বেড়ে উঠলেও নূর হোসেনের বাড়ি কোথায় ছিলো, আমার জানা নেই। নারিন্দার কোন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে নূর তার বাবার ভীষণ

আমার মৃত্যুর দিনটি যেমন হতে পারে

– শুনছেন! মুনশি বাড়ির মফিজলের পোলা রনি নাকি মইরা গ্যাছে! – কোন রনি? – আরে! ফিরোজসাবগো বাড়ির চান্দু আছে না? চান্দুর ছোড ভাইয়ের পোলা। ঢাকা শহরে বড় ভার্সিটিত্ আছিল। – অঅঅঅ! আমাগো মইজুলের পোলাডা! বদিয়ার নাতি! আহারে! পোলাডা আদব কায়দা জানতো। আমার লগে একবার রমযান মাসে  তারাবির পরে কথা হইছিলো। উপরের আলাপটা আমার গ্রামের কোন

সাইকেল চালানো শেখার জটিল জার্ণি ও বিডি সাইক্লিস্টস

-ভাই, একটু সোজা হইয়া বসেন! -আরে মিয়া, এমনে নড়াচড়া করলে হইবো! আজব পাবলিক! -খাড়ান খাড়ান…থামেন ভাই। আপনেরে আমি সাইকেল চালাইন্না হিগাইতে পারুম না। এমন পাত্থরের মতোন শরীল লইয়া আমনেরে দিয়া সাইকেল চালাইন্না হইবো না। আমার অসংখ্যবার সাইকেল চালানো শেখার এক বারের আলাপ এটি। ছোটবেলা থেকে সাইকেল নিষিদ্ধ ছিলো আমার পরিবারে। কঠিন নিয়মের মধ্যে হোস্টেলে থেকে