গত শতকের অস্থির, দ্রুত পরিবর্তনমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক আবহে এডওয়ার্ড সাঈদ ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল চিন্তাবিদদের একজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, বিশেষত ষাট ও সত্তরের দশকে সকল ধরনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কাছে আনতে অসম্ভব একটা মানব-বিশ্বে সাঈদের আবির্ভাব প্রচণ্ড আলোড়নের মতো, যা নাড়িয়ে দেয় পশ্চিমের সাংস্কৃতিক প্রভাবনের সূত্রে অর্জিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মূল-ভিত্তির কৃত্রিম গ্রন্থিগুলো খুলে খুলে দেখায় এবং এভাবে অনুন্নত অঞ্চলগুলোর, বিশেষ করে প্রাক্তন উপনিবেশিত দেশসমূহের মানুষদের চিন্তাভঙ্গির দীর্ঘকালীন উপনিবেশিক-অনুবর্তনের মধ্যে সূচিত করে অবমুক্তি ও বিকাশের তীব্র সম্ভাবনা। সাহিত্যের ছাত্র ও অধ্যাপক হয়েও আর্থ-রাজনৈতিক, সামাজিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল কর্তৃত্বকেই তিনি চিহ্নিত করেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আক্রমণ করেন, তার স্বরূপ উন্মোচন করে দেখান।
জেরুজালেমে ১৯৩৫ সালে এডওয়ার্ড ওয়াদি সায়িদের জন্ম।আর দশ জন ফিলিস্তিনির মতোই বাস্তুচ্যুত হয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবার সাথে কায়রোতে এসে একটি এলিট ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হন।খৃস্টান ধর্মাবলম্বী সায়িদ ১৯৫১সালে আমেরিকাতে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে বি.এ., ১৯৬০–এ এম.এ. পাস করেন । পিএইচ. ডি. করেন হার্ভাডে, ১৯৬৪ সনে। পুস্তক সংখ্যা কুড়িটির উপরে। ‘ওরিয়েন্টালিজম’ ছাড়াও ‘কোশ্চেন অব প্যালেস্টাইন’ (১৯৭৯), ‘কাভারিং ইসলাম’ (১৯৮১), ‘কালচার এন্ড ইম্পেরিয়ালিজম’(১৯৯৩),আত্মজীবনী-‘আউট অব প্লেসঃ এ মেমোয়ার’(১৯৯৯), ‘ফ্রয়েড এন্ড নন্ ইউরোপীয়ান’(২০০৩)প্রভৃতি সাড়া জাগানো সৃষ্টিকর্মের তকমা পেয়েছে। ওরিয়েন্টালিজম ৩৬ টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয় সত্য, কিন্তু বাকিগুলোও কি কম গেছে!