Hafizul Islam

বৃষ্টি, ভালোবাসা , রূপকথা এবং একজন সপ্রতিভ কিশোরীর গল্প

আমার আকাশ আমি যতো ই হাজার অন্য রংয়ে আঁকি..
আকাশ সে তো নীল ই থেকে যায়…
আমার সাদা কালো শহর, সে তো সাদা কালো ই থাকে..
আমি যতোই রঙিন নিয়ন জ্বালাই..

রাতভর ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। ভোরের রাস্তায় সুনসান নীরবতা। ভীষণ স্নিগ্ধ আর পবিত্র লাগছে আজকের সকালটা। আমার গল্পের লেখক, অর্ক রায়হান, তার লেখার একটা চরিত্র চিত্রায়ণ নিয়ে বিরক্ত হয়ে আছেন। কিছুত্রেই ফুঁটিয়ে তুলতে পারছেন না চরিত্রটিকে। রামপুরা বাজার হয়ে মালিবাগ রেলগেট, সেখান থেকে ফ্লাইওভারের পথে হাঁটছেন তিনি। চরিত্রটা বেশ জটিল। একজন হাস্যময়ী কিশোরীর চরিত্র।

লেখকের সাথে তার প্রথম দেখা হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। কোন এক রোদজ্বলা নিঝ্ঝুম দুপুরে। ধরা যাক মেয়েটির নাম অনন্যা। শহরের নামী এক কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়েছে সম্প্রতি। চোখে রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন..। মেয়েটি তখন হাসছিলো নিঃশব্দে। দেখেই লেখকের মনে হয়েছিলো, জোৎস্নার ফুল ঝরে পড়ছে শব্দহীন মুখরতায়। কিছু মুখ থাকে এমন, তারার মতো ঝকঝকে। সহজে মুছে ফেলা যায় না স্মৃতি থেকে। বারবার নানা রঙ আর রূপ নিয়ে ফিরে ফিরে আসে।

অনন্যাও ঠিক তেমনই একজন। অনন্যার খুব ভালো লেগে যায় আমার গল্পের লেখককে। সপ্রতিভ ভঙ্গিতে নিজের ভালোলাগা জানিয়েও দেয় অনন্যা।  সম্পর্কটা সামনে এগিয়ে চলে। খুব ভালো বন্ধুত্ব তৈরী হয় তাদের মধ্যে। লেখক লিখেন। অনন্যা পড়তে শুরু করে। সময়ও কাটতে থাকে তার আপন নিয়মে।

জনাকীর্ণ লোকাল বাস, ফুটপাতের সস্তা তরমুজ এবং একজন নিম্নবিত্তের একটি সকালের গল্প

কবি হাসে টাকা ভাসে গঙ্গা বুড়ির শহরে আসমান তুই কাঁদিস কেন অট্রালিকার পাহাড়ে মিছে হাসি মিছে কান্না পথে পথের আড়ালে গ্রীন সিগনাল রেড ওয়াইন দেয়ালে দেয়ালে এই শহর যাদুর শহর প্রানের শহর ঢাকারে —চিরকুট প্রাণের এই শহরটা বড়ো বেশি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। যাদুর এই শহরে এখন আর কেউ যাদু দেখায় না। সবাই ব্যস্ত..। সাই সাই

১০০ কি:মি: রাইড এবং একটি ক্রস কান্ট্রি রাইডের প্রস্তুতি

“হারিয়ে গিয়েছি, এইতো জরুরি খবর অবাক দুই চোখে, ছায়া কাঁপে ভয় অভিমানে হারিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই এখানে হারাবো বলে, পা টিপে এগুতে গেলে গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক পায়ে পায়ে হারাবার জায়গা খুজে মরি গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক পায়ে পায়ে হারাবার জায়গা খুজে মরি…” —–সাহানা বাজপেয়ী # হারানোর ইচ্ছেটা আমাদের ভেতরের কোন গহীন অন্দরে

রোজকার কড়চা

আমার জন্য সবার কষ্ট হচ্ছে। প্রিয়তার জন্য আমি মোটেও পারফেক্ট নই। আমি আসলে কারো জীবনেই সাযুজ্যপূর্ণ নই। কিছু মানুষকে হয়তো এভাবেই বেঁচে থাকতে হয়..। জানি না…। কিচ্ছু জানতে ইচ্ছা করছে না। চলে যেতে ইচ্ছা করছে দূরে কোথাও। যেখানে কেউ কারো জন্য নয়…। শুধুই সুমহান মৌনতার অপেক্ষা…

রোজকার কড়চা

রাস্তার পাশে জীর্ণ ভ্যানগাড়ি কিংবা স্টলে আয়োজিত ফুডকোর্টগুলো না থাকলে, আমার মতো ছাপোশা গুরুতর মধ্যবিত্তদের অবস্থা কী হতো, কে জানে…

কোকন ট্রি; এক আধুনিক বৃক্ষনিবাসের আদ্যোপান্ত

মনে করুন, সময় এখন রাত ৩টা বেজে ৩০ মিনিট। আপনি শুয়ে আছেন রুক্ষ পশ্চিমের কোন এক দুর্গম ট্রেইলে। পাশে দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছে আপনার বিশ্বস্ত ঘোড়া।  কিংবা, ঘুমোচ্ছেন টেক্সাসের কোন এক সুপ্রাচীন র‌্যাঞ্চে। পড়নে কাউবয়ের পোশাক। কেমন হবে ব্যাপারটা? কিংবা মনে করুন, এই বর্তমান কংক্রিট সময়ে আপনি জায়গার অভাবে আবাস গেড়েছেন, দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানের ফাকা জায়গাটুকু দখল

“তবু আমারে দেব না ভুলিতে …” কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ছোটবেলার পাঠ্যবই থেকে ওঠে আসা কিংবদন্তি। আমার এক অসম্ভব প্রিয় চরিত্রের নাম। শুধু আমারই নয়, বরং, বিংশ শতাব্দীর হাজারো বাঙালির কাছে তিনি ছিলেন জনপ্রিয়তম কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ভূমিকার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য যিনি সর্বাধিক পরিচিত। তিনি আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের, প্রিয় জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – উভয় বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর রচনায়, কবিতায়, গানে, প্রবন্ধ-ভাষণে বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর কলম ছিলো, মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, প্রভূত্ব, ধর্মের দোহাই দিয়ে অধর্মের চর্চা এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী।

বাংলাদেশী ডাকটিকেট..হারানো সময়ের গল্পকথক…

ছোট্ট একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করছি। কোন এক মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করা হলো, ভারতবর্ষে কে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন? পরীক্ষার্থী উত্তরে বলেছিলো, যে ঘোড়াটি প্রথম ভারতবর্ষে আসে, সেই ঘোড়াটি নিশ্চয়ই!! উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাকের প্রবর্তক কে ছিলেন, সেটা নিয়ে ইতিহাসের নীরস তত্ত্ব অনুসন্ধানের অনুসন্ধিৎসা আমার আপাতত হচ্ছে না। আমি বরং ডাকটিকেট নিয়ে কথা বলি। ডাকটিকেট কিংবা ডাকটিকিট যে ভাবেই বলুন ইংরেজীতে এটাকে Philately বলে। ডাকটিকেট বহুদিন ধরেই ডাকব্যবস্থার একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। এর আকার যতই ছোট, আবেদন কিন্তু ঠিক ততটা ছোট নয়। আর, বিশেষ দিনক্ষণ, ঘটনা কিংবা বিশেষ উপলক্ষে ছাপানো ডাকটিকেটের বাড়তি ক্বদর তো থাকেই। একটি দেশের ইতিহাস, সামাজিকতা, নৃ-তাত্ত্বিক বিবর্তন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনেক কিছুই ধারণ করে থাকে এই ডাকটিকেট নামের ছোট্ট কাগজখন্ডটি। ডাকের চিঠিপত্রের কোনায় আঠা দিয়ে সাঁটানো রঙীন ছোট চারকোনা (কোন কোন টিকেট অবশ্য ত্রিভূজাকৃতি এবং গোলও হয়ে থাকে) কাগজটিই ডাকটিকেট।