Hafizul Islam

নির্বাসনের প্রাক-কথন এবং আমার ব্লগীয় জন্মদিন…

আমি হয়তো মানুষ নই,
মানুষ হলে আকাশ দেখে হাসবো কেন ?
মানুষগুলো অন্যরকম, হাত থাকবে,
নাক থাকবে, তোমার মতো চোখ থাকবে,
নিকেলমাখা কী সুন্দর চোখ থাকবে
ভালোবাসার কথা দিলেই কথা রাখবে ।

বাবাকে আমি ভীষণ পছন্দ করতাম। ছোটবেলায় বাবা বলেছিলেন, আরে ধূর..! কাছে আসবি না তো! তোকে না বলেছি, সবসময় দূরে থাকবি..!! আমি দূরেই থেকেছি বাবা..। সেই থেকে আর কখনো তোমার কাছে আসিনি। জানো বাবা, মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হতো তোমার কোলে মাথা রাখতে। খুব ইচ্ছে হতো ইমন লিমনদের মতো তোমার হাত ধরে ঘুরতে যেতে। কিন্তু, আমি কখনো তোমার কাছে যেতাম না বাবা। তুমি যদি বিরক্ত হও! কি বুঝেছিলাম সেদিন, সেটা আর এখন মনে করতে পারিনা। তবে আর কখনো তোমার কাছে যাইনি। আমি এখন অনেক দূরে চলে গিয়েছি বাবা। অনেক দূরে..। তোমার কাছে কোন প্রয়োজনে যেতাম কখনো সখনো। মা তখন আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলতো। সেটাকে তুমি বলতে ওয়েটিং রুম। মাসের খরচের টাকার জন্য তোমার জন্য ওয়েট করতাম। বাবা, আমাকে এখন শুধুই ওয়েটিং করতে হয়। আমাকে এখন ওয়েট করতে হয় সবকিছুর জন্য। আমার চারদিকে এখন অসংখ্য ওয়েটিং রুমের ছড়াছড়ি। আমি আমার প্রিয় মানুষটিকে ভীষণ ভালোবাসি। আমাকে ওয়েট করতে হয় তার একটু সুন্দর হাসির জন্য। তার একটু উচ্ছল আনন্দের জন্য আমাকে বসে থাকতে হয় অনন্তকাল…। আমি ভাবি…। আমার ভাবনার কোন শেষ হতে চায় না। হয়তো এর কোন শেষ নেই বলেই…। প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলবো বলে ফোন দিই। আমার মোবাইলের স্ক্রীণে ভেসে উঠে ওয়েটিং….।

একজন স্ট্রীট ম্যাজিশিয়ান ও রূপকথার জাদুকরের গল্প

জনারণ্যে খুঁজে ফিরি আপনার স্বজন…পথ-লিপি – ২

”দেহেন ভাই, আমার হাতে কয়ডা কার্ড? তিনডা? আমি দেখতাছি চাইরডা। বাইর কইরা দেহান তো…” এভাবেই ঢাকার নগরকর্তার বাড়ির সামনে, ওসমানী উদ্যানের লাগোয়া ফুটপাথের অনাড়ম্বর আর ধুলোমলিন স্টেজে ম্যাজিক দেখাচ্ছিলেন আমার শৈশবের স্বপ্নের জাদুকর হ্যারি হুডিনী। অবাক হলেন তো? অবাক হবারই কথা। বিশ্বের খ্যাতনামা ম্যাজিশিয়ান হুডিনীর কী প্রয়োজন হলো যে, তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে শো করবেন!
আমি আসলে গল্প বলছি। ছোট্ট এক কিশোরের গল্প। অশুদ্ধ বাংলায় কথা বলা এক ছোট্ট ম্যাজিশিয়ানের প্রতিদিনকার গল্প। যে জানে না, ম্যাজিক আমাদের সমাজে মনোরঞ্জনের উপকরণ। সে শুধু জানে, অন্তত কয়েকটা ম্যাজিকের সামগ্রী বিক্রি করতে না পারলে তার ছোট্ট বোনটি রাস্তার সস্তা হোটেলেও খেতে পাবে না।
অফিস ফেরৎ আমি দাঁড়ালাম ম্যাজিক দেখবো বলে। একটি শতচ্ছিন্ন ব্যাগে অল্প কিছু পুরোনো ম্যাজিকের উপকরণ, একটা প্লাস্টিকের বস্তা, একটা এনার্জি বাল্ব, মলিন কিছু ছেড়া পোশাক, ছোট্ট এক বোন নিয়েই তার সংসার। মা আছেন কোথাও কাজে। জানতে চাইলাম কী নাম তোমার? নাম দিয়া কাম কী? ট্যাকা দিবেন নাম কইলে? আমি অন্য প্রশ্ন করলাম। তিন কার্ডের খেলাটা কয় টাকা রাখবা? বললো ৫০ টাকা একদাম। বললাম, কার্ডতো পুরোনো হয়ে গেছে। ঝাঁজের সাথে উত্তর দিলো ছেলেটা, নিলে ন্যান, না নিলে রাস্তা মাপেন ভাই। এতো প্যাচালের তো দরকার নাই।

আমি একজন চিন্তাশীল মানুষ

(লেখাটি অন্যরকম গ্রুপের একটি ক্রিয়েটিভ প্রজেক্টের জন্য লেখা। এবং, এই লেখাটি আমাকে প্রজেক্টের শর্টলিষ্টে উঠিয়ে তার সামর্থ্য প্রমাণ করেছিলো। 🙁  পড়াশোনা/পরিক্ষার ক্যাচালে ওয়ার্কশপটা করা হলো না। )

চিন্তা, বিচিন্তা, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষম চিন্তা যেটাই হোক সেই ছোটবেলা থেকেই মস্তিষ্কের অন্দরে স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠেছিলো এই বোধটি। প্রতিদিন দুটো করে কুকিজ খেতে দিয়ে যখন মা বলতেন অচিনপুরের কোন এক ঈগল পাখির গল্প, যে আমার জন্য দুটো্ করে কুকিজ রেখে যায়, তখন ভাবতাম কোথায় সেই পাখিটির দেশ? কেমন সে দেশের মানুষ? সেখানের শিশুরা কি দুটো কুকিজ খায় নাকি আরো বেশি? আমার ভাবনার রেলগাড়ি তখন থেকেই চলতে শুরু ।

হোস্টেলে বড়ো হবার সুবাদে নিজের চারপাশে রাশি রাশি বইয়ের স্তুপ নিয়ে বেড়ে উঠেছি।বইয়ের পাতায় পাতায় অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য জীবন, ফেলে আসা অসংখ্য অতীত আর চলিষ্ঞু বর্তমানের অজস্র চরিত্রের সাথে হাতে হাত রেখে এগিয়ে গিয়েছে আমার চিন্তারা।রবীন্দ্রনাথের ফটিক থেকে শুরু করে শরৎএর শ্রীকান্ত কিংবা হালের টোকন ঠাকুর সবাই আমাকে ভাবায়। সকালের সূর‌্যটা যখন কুয়াশায় মুখ ঢেকে উঁকি দেয়, তখনও আমি ভাবি।

ড্রোন; একটি যান্ত্রিক ফড়িংয়ের ইতিবৃত্ত

অসীমের করিডোরে পা রাখার দুঃসাহসী ইচ্ছে মানুষের সবসময়ই হয়েছে। ঈকারাসের ডানায় চেপে মানুষর স্বপ্ন পাড়ি দিতে চেয়েছে মহাকাশের সীমানাহীন বিস্তার।ক্রমশ বেড়েছে পৃথিবী নামক সবুজ গ্রহটির বয়স। বেড়েছে সভ্যতার গতিবেগ। প্রযুক্তির পালে হাওয়া লাগিয়ে দ্রুত ধাবমান বর্তমান শতাব্দিতে বিজ্ঞান জন্ম দিচ্ছে অসংখ্য সব বিস্ময়ের। আজকে বলবো তেমনই এক অবাক করা গল্প।শোনাবো ড্রোন নামক এক যান্ত্রিক ফড়িংয়ের ইতিকথা।

শুরুর কথা

১৯৫৯ সাল। আমেরিকান বিমান বাহিনীর গোপন (Classified)এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব করে, অদ্ভূত এক বিমান আবিষ্কারের। যার মূল থিম হচ্ছে, পাইলট থাকবে না এই বিমানে। শুরু হলো প্রথম মনুষ্যবিহীন বিমান তৈরীর কাজ। জন্ম নিলো Unmanned Arial vehicle (UAV) আনম্যানড এ্যারিয়াল ভেহিকল বা ড্রোন। ড্রোন শব্দের আভিধানিক অর্থ হল গুঞ্জন। মৌমাছির গুঞ্জনধ্বণি তুলে পথ পাড়ি দেয় বলেই এই নামে ডাকা হয় মানুষ্যবিহীন ড্রোনকে।

ব্লগসাহিত্য; চিরন্তন ক্যানভাসে নতুনের জলছবি

‘ব্লগার মানেই হচ্ছে সময়ের অগ্রবর্তী সত্ত্বা।’ শুরু করছি শ্রদ্ধেয় রণদীপম বসুর উক্তি দিয়ে। ইদানিংকালে ‘ব্লগসাহিত্য’ শব্দটি খুব জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে বিভিন্ন মত ও ধারার অনলাইন বাংলা কমিউনিটি তৈরী হচ্ছে। স্বভাবতই এসব কমিউনিটিতে যুক্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। একসময় ব্লগ বলতে শুধু দিনলিপিই বুঝাতো। এখন পাল্টে যাচ্ছে ব্লগের চিরায়ত সংজ্ঞা। ব্লগ হয়ে উঠছে সাহিত্যের শক্তিশালী একটি ধারা।
‘ব্লগসাহিত্য’ সাহিত্য কিনা, সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। হচ্ছেও ঢের। সাহিত্যের সুসংহত এবং নিরপেক্ষ সংজ্ঞা , লিখিত সাহিত্যের দুই হাজার বছরের ইতিহাসে দেয়া সম্ভব হয় নি। কোন্ লেখা সাহিত্যপদবাচ্য, সেটা নিয়ে বিতর্কের ফয়সালা এখনি করা যাবে বলে মনে করছি না। বরং, ইদানিং একটা ওয়ার্কিং ডেফিনেশন ডিফাইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফিনিশিং টাচ বোধকরি এখানো দেয়ার সময় আসে নি।
সাহিত্য সময়কে ধারণ করে। শব্দের আবরনে জীবনবর্তী সময়ের, অন্তস্থ প্রতিপাদ্য উদঘাটনের ভিন্নতর ডিসকোর্সই সাহিত্য। যদি ব্লগ আমাদের চলমান সময়কে ধারণ করতে সক্ষম হয়- যদি আতীব্র অনুসন্ধানের বেশুমার কম্বিনেশন মিলিয়ে যাপিত জীবনের অন্তর্লোক চিত্রায়ণে মুন্সিয়ানা থাকে ব্লগাশ্রয়ী সাহিত্যের, তাহলে ব্লগের চিরায়ত সাহিত্য হতে বাঁধা কোথায়?